ব্লগে ফিরে যানClaude AI

Zero-coding দিয়ে নিজের ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট বানানোর সম্পূর্ণ প্রসেস

Onnesh Team৯ আগস্ট, ২০২৬

Zero-coding দিয়ে নিজের ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট বানানোর সম্পূর্ণ প্রসেস

রংপুরের একজন ইলেকট্রনিক্স মেরামতের দোকানদারের কথা ধরা যাক। দোকান চলে ভালোই, কাস্টমার আসে মুখে মুখে শোনা কথায়। কিন্তু গুগলে "রংপুরে ফ্রিজ মেরামত" লিখে সার্চ করলে তার দোকানের নামগন্ধও নেই। ওয়েবসাইট বানানোর কথা কয়েকবার মাথায় এসেছে, কিন্তু ডেভেলপার ভাড়া করার বাজেট নেই, আর কোডিং শেখার সময়ও নেই। এই জায়গাতেই zero-coding প্রসেসটা কাজে লাগে, Claude AI কে সাধারণ বাংলা বা ইংরেজি নির্দেশ দিয়ে পুরো একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলা যায়, কোনো লাইন কোড নিজে না লিখেই।

এই লেখায় পুরো প্রসেসটা ধাপে ধাপে দেখানো হচ্ছে, শুরু থেকে লাইভ হওয়া পর্যন্ত। কোনো ধাপ বাদ দিলে পরে সমস্যা হয়, তাই ক্রমটা মেনে চলাই ভালো।

ট্র্যাডিশনাল ওয়েবসাইট বানানো থেকে এই প্রসেস কেন আলাদা

ডেভেলপার ভাড়া করলে প্রথমে একটা রিকোয়ারমেন্ট ডকুমেন্ট বানাতে হয়, তারপর ডিজাইন অনুমোদন, তারপর ডেভেলপমেন্ট, তারপর রিভিশন, প্রতিটা ধাপে দিন বা সপ্তাহ লেগে যায়, আর প্রতিটা ছোট পরিবর্তনের জন্য আবার যোগাযোগ করতে হয়। Claude AI দিয়ে বানালে এই মধ্যবর্তী ধাপগুলো নেই। আপনি সরাসরি বলছেন কী চান, সাথে সাথে দেখতে পাচ্ছেন ফলাফল, আর পছন্দ না হলে সাথে সাথে বলে দিচ্ছেন কী বদলাতে হবে। পুরো জিনিসটা একটা কথোপকথনের মতো চলে, ইমেইল চালাচালির মতো না।

এর মানে এই না যে ডেভেলপার সবসময় অপ্রয়োজনীয়। জটিল সিস্টেম, বড় টিম, বা কাস্টম ইন্টিগ্রেশনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডেভেলপার লাগবেই। কিন্তু একটা ছোট ব্যবসার তথ্যমূলক ওয়েবসাইট, যেখানে ব্যবসার পরিচিতি, সার্ভিস, আর যোগাযোগের তথ্য থাকলেই চলে, সেখানে zero-coding রুটটা যথেষ্ট।

ধাপ ১: কী কী পেজ আসলে দরকার তা আগে ঠিক করা

সবচেয়ে বড় ভুল যেটা মানুষ করে, তা হলো সরাসরি প্রম্পট লিখতে বসে যাওয়া, না ভেবেই। তার আগে কাগজে বা মনে মনে ঠিক করা দরকার, সাইটে আসলে কী কী থাকবে।

একটা ছোট ব্যবসার জন্য সাধারণত তিন ধরনের পেজ যথেষ্ট।

হোমপেজ

এখানে ব্যবসা কী করে তা এক নজরে বোঝা দরকার, প্রথম স্ক্রল না করেই। নাম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, আর একটা স্পষ্ট বাটন (যেমন "যোগাযোগ করুন" বা "সার্ভিস দেখুন") থাকলেই যথেষ্ট।

সার্ভিস বা প্রোডাক্ট পেজ

কী কী সার্ভিস দেওয়া হয় তার বিস্তারিত তালিকা। রংপুরের ওই দোকানদারের ক্ষেত্রে এটা হবে কোন কোন ব্র্যান্ডের ফ্রিজ-এসি সারানো হয় তার তালিকা।

যোগাযোগ পেজ

ফোন নম্বর, ঠিকানা, ম্যাপ, আর দোকান খোলা থাকার সময়। এই তিনটা পেজের কন্টেন্ট আগে থেকে ঠিক করে রাখলে পরের ধাপগুলো অনেক সহজ হয়ে যায়।

ধাপ ২: প্রথম প্রম্পট — কম হলেও স্পষ্ট হতে হবে

প্রথম প্রম্পটে সবকিছু গুঁজে দেওয়ার দরকার নেই। বরং একটা সাধারণ কাঠামো দিয়ে শুরু করা ভালো, যেমন: "আমার একটা ইলেকট্রনিক্স মেরামতের দোকানের জন্য সিম্পল ওয়েবসাইট বানাও। উপরে দোকানের নাম আর লোগোর জায়গা, মাঝে কী কী সার্ভিস দেই তার তালিকা, নিচে ঠিকানা ও ফোন নম্বর।"

এইটুকু থেকেই Claude একটা প্রাথমিক কাঠামো বানিয়ে দেয়, হেডার, সার্ভিস সেকশন, ফুটার সহ। এটা নিখুঁত হবে না, হওয়ার কথাও না। প্রথম ভার্সনের কাজ হলো একটা শুরুর বিন্দু তৈরি করা, যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন পরে কোথায় বদল দরকার।

ধাপ ৩: ফিডব্যাক দিয়ে দিয়ে ঠিক করা

এই ধাপটাই আসলে পুরো প্রসেসের প্রাণ। প্রথম ভার্সন দেখে যা মনে হয় সরাসরি সেটাই বলে দিতে হয়, "রংটা বেশি গাঢ়, হালকা নীল করো", "সার্ভিসের তালিকাটা কার্ড আকারে দেখাও, শুধু লেখা না", "মোবাইলে দেখলে লোগোটা অনেক বড় দেখাচ্ছে, ছোট করো"। প্রতিটা মন্তব্যের পর Claude পুরো কোড আবার লেখে না, শুধু যে অংশটা বলা হয়েছে সেটাই বদলায়।

এখানে একটা প্যাটার্ন কাজে দেয়, একবারে একটা বিষয় নিয়ে কথা বলা। "রং, ফন্ট, আর লেআউট সবকিছু একসাথে বদলাও" বললে ফলাফল অগোছালো হয়। বরং প্রথমে লেআউট ঠিক করে, তারপর রং, তারপর ফন্ট, এভাবে এগোলে প্রতিটা বদল স্পষ্টভাবে যাচাই করা যায়।

ধাপ ৪: ব্যবসার জন্য জরুরি ফিচার যোগ করা

সাধারণ পেজ কাঠামো তৈরি হয়ে গেলে ব্যবসা-নির্দিষ্ট জিনিসগুলো যোগ করার পালা। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বাটন এখন প্রায় প্রতিটা বাংলাদেশি ছোট ব্যবসার জন্য দরকারি, কারণ এখানে ফোন কলের চেয়ে মেসেজে যোগাযোগ করাটা মানুষ বেশি পছন্দ করে। গুগল ম্যাপ এমবেড করা থাকলে কাস্টমার সরাসরি দোকান খুঁজে পান। প্রাইসিং বা সার্ভিস চার্জের একটা টেবিল থাকলে বারবার ফোন করে জিজ্ঞেস করার ঝামেলা কমে।

এই প্রতিটা ফিচার আলাদা আলাদা প্রম্পটে চাওয়া যায়, "নিচে একটা হোয়াটসঅ্যাপ বাটন যোগ করো যেখানে ক্লিক করলে সরাসরি চ্যাট খুলবে" বললেই যথেষ্ট। Claude নিজে থেকে বুঝে নেয় কীভাবে এটা বাস্তবায়ন করতে হবে।

ধাপ ৫: মোবাইলে পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক

বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ ওয়েবসাইট দেখেন মোবাইল থেকে, ডেস্কটপ থেকে না। তাই ডেস্কটপে সুন্দর দেখানো একটা সাইট মোবাইলে ভেঙে দেখাতে পারে, টেক্সট ওভারল্যাপ করছে, বাটন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, ছবি কেটে যাচ্ছে। প্রতিটা বড় পরিবর্তনের পর মোবাইল ভিউতে চেক করে নেওয়া উচিত। সমস্যা পেলে সরাসরি বলে দেওয়া যায়, "মোবাইলে হেডারের মেনুটা দেখা যাচ্ছে না, ঠিক করো", আর Claude সেটা সমাধান করে দেয়।

কনটেন্ট আর ছবি কোথা থেকে পাবেন

এই জায়গাটা অনেকে ভুলে যান। ওয়েবসাইটের কাঠামো Claude বানিয়ে দিতে পারে, কিন্তু দোকানের আসল ছবি, সঠিক ফোন নম্বর, বা সার্ভিসের সঠিক দাম, এসব তথ্য আপনাকেই দিতে হবে। রংপুরের দোকানদারের উদাহরণেই ফিরি, তিনি যদি নিজের দোকানের বাইরের ছবি, ভেতরের কাজের ছবি, আর মেরামত করা কিছু ডিভাইসের ছবি মোবাইলে তুলে রাখেন, তাহলে সেগুলো সরাসরি সাইটে বসিয়ে দেওয়া যায়। স্টক ফটো ব্যবহার করা যায় শুরুতে, কিন্তু আসল ছবি থাকলে কাস্টমারের বিশ্বাস অনেক বেশি হয়, একটা অচেনা মডেলের ছবির চেয়ে নিজের দোকানের সত্যিকারের ছবি সবসময় ভালো কাজ করে।

লেখার ক্ষেত্রেও একই কথা। Claude আপনাকে ভালো বাংলা বা ইংরেজি বাক্য গঠনে সাহায্য করবে, কিন্তু আপনার ব্যবসা সম্পর্কে তথ্য, কতদিন ধরে চলছে, কী কী ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ হয়, কোন এলাকায় সার্ভিস দেওয়া হয়, এসব আপনাকেই জানাতে হবে প্রম্পটে। যত নির্দিষ্ট তথ্য দেবেন, লেখা তত বাস্তবসম্মত হবে, সাধারণ বিজ্ঞাপনী ভাষার মতো শোনাবে না।

ধাপ ৬: হোস্টিং ও ডোমেইন যুক্ত করা

সাইট প্রস্তুত হয়ে গেলে শেষ ধাপ হলো সবার জন্য লাইভ করা। এই অংশটা Vercel-এ হোস্ট করার নিয়ম নিয়ে আলাদা একটা গাইডে বিস্তারিত লেখা আছে, সংক্ষেপে বললে, কোড GitHub-এ রাখা হয়, তারপর Vercel-এর সাথে সংযুক্ত করা হয়, আর কয়েক মিনিটের মধ্যে সাইট লাইভ হয়ে যায়। এরপর একটা কাস্টম ডোমেইন (যেমন আপনার দোকানের নামে .com বা .com.bd) কিনে যুক্ত করলে ব্যবসা আরও পেশাদার দেখায়।

সাইট লাইভ হওয়ার পরেও কাজ শেষ হয় না

অনেকে ভাবেন সাইট লাইভ হয়ে গেলেই কাজ শেষ। বাস্তবে এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। নতুন সার্ভিস যোগ হলে, দাম বদলালে, বা অফিস সময় পরিবর্তন হলে, সাইটেও সেই আপডেট দিতে হয়। ভালো খবর হলো, zero-coding পদ্ধতিতে এই আপডেটগুলোও একই রকম সহজ। শুধু Claude-কে গিয়ে বলা, "সার্ভিস তালিকায় এসি ইনস্টলেশন যোগ করো", আর কয়েক মিনিটে সেটা হয়ে যায়। ডেভেলপার ভাড়া করে বানানো সাইটে এই ছোট পরিবর্তনের জন্যও আবার তাকে ফোন করতে হতো, হয়তো বাড়তি টাকাও গুনতে হতো।

পুরো প্রসেসে কতদিন লাগে

এটা নির্ভর করে সাইটের জটিলতার ওপর। একটা সাধারণ তিন-চার পেজের ব্যবসার সাইট, যেখানে হোমপেজ, সার্ভিস তালিকা, আর যোগাযোগ পেজ আছে, এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই দাঁড় করানো সম্ভব, যদি প্রতিদিন কিছুক্ষণ সময় দেওয়া যায়। কিন্তু এখানে তাড়াহুড়া করার কিছু নেই। প্রথমবার যারা করছেন, তাদের জন্য এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে ঠিক করাটাই বেশি বাস্তবসম্মত, কারণ প্রতিটা প্রম্পট লেখা আর তার ফলাফল বোঝার একটা শেখার বক্ররেখা আছে।

যেখানে নতুনরা আটকে যান

সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো প্রথম প্রম্পটেই সবকিছু চাওয়া, "ই-কমার্স, ব্লগ, বুকিং সিস্টেম, মেম্বারশিপ সব একসাথে বানাও" ধরনের নির্দেশ দিলে ফলাফল অগোছালো হয়ে যায়, কারণ Claude একসাথে অনেক কিছুর মধ্যে অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারে না। ছোট ছোট ধাপে এগোনোই বাস্তবসম্মত পথ।

দ্বিতীয় সমস্যাটা হলো প্রথম ফলাফল দেখে হাল ছেড়ে দেওয়া। প্রথম ভার্সন কখনোই চূড়ান্ত রূপ না, এটা শুধু একটা খসড়া। যারা তিন-চারবার ফিডব্যাক দিয়ে ঠিক করার ধৈর্য রাখেন, তারাই ভালো ফলাফল পান।

তৃতীয় সমস্যা, লেখা ও তথ্যের ভুল খেয়াল না করা। Claude যা লেখে তা মসৃণ পড়তে ভালো লাগে, কিন্তু ফোন নম্বর, ঠিকানা, দাম, এসব সবসময় নিজে চোখে দেখে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

রং আর ফন্ট নিয়ে ভাবনা

অনেকে ভাবেন রং-ফন্ট বাছাই করাটা বড় ডিজাইনারদের কাজ, সাধারণ মানুষের এত জ্ঞান থাকে না। বাস্তবে এখানেও একই কথোপকথনের পদ্ধতি কাজ করে। "আমার ব্র্যান্ডের রং নীল, সাইটটাও সেই থিমে বানাও" বললেই Claude একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ রঙের প্যালেট বেছে নেয়। দোকানের সাইনবোর্ডের রং, প্যাকেজিং-এর রং, বা লোগোর রং যদি আগে থেকেই ঠিক থাকে, সেটা প্রম্পটে উল্লেখ করলে সাইটটা ব্র্যান্ডের সাথে মিলে যায়। রংপুরের ওই দোকানদারের সাইনবোর্ড যদি হলুদ-কালো হয়, সেই রংগুলো সাইটেও রাখলে কাস্টমার দূর থেকে চিনতে পারবেন এটা তারই দোকান।

ফন্টের ক্ষেত্রে বাংলা লেখা স্পষ্ট আর সহজপাঠ্য হওয়াটা জরুরি। কিছু ফন্ট দেখতে সুন্দর কিন্তু ছোট স্ক্রিনে পড়া কঠিন হয়ে যায়। এখানেও সরাসরি বলে দেওয়া যায়, "লেখাটা আরেকটু বড় করো, মোবাইলে পড়তে কষ্ট হচ্ছে", আর এটা তাৎক্ষণিক ঠিক হয়ে যায়।

প্রশ্ন যেগুলো প্রায়ই আসে

সাইটটা কি সার্চ ইঞ্জিনে দেখাবে? এই প্রশ্নটা প্রায় সবাই করেন। উত্তর হলো, দেখাবে, তবে সময় লাগে। নতুন সাইট গুগলে ইনডেক্স হতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় নেয়, আর তারপরও র‍্যাংকিং নির্ভর করে কনটেন্ট, প্রতিযোগিতা, আর নিয়মিত আপডেটের ওপর। কেউ যদি আশা করেন সাইট বানানোর পরদিনই প্রথম পাতায় চলে আসবে, সেটা বাস্তবসম্মত না।

আরেকটা সাধারণ প্রশ্ন, একবার বানালে কি বারবার টাকা লাগবে? হোস্টিং আর ডোমেইনের একটা ছোট বার্ষিক খরচ থাকে, কিন্তু বারবার ডেভেলপার ভাড়া করার খরচ থাকে না, কারণ ছোটখাটো পরিবর্তন নিজেই করা যায়।

এই স্কিলের বাড়তি ব্যবহার

একবার নিজের ব্যবসার সাইট বানানো শিখে গেলে একই স্কিল দিয়ে আশেপাশের অন্য দোকানদার বা পরিচিতদের জন্যও সাইট বানিয়ে দেওয়া যায়, ফ্রিল্যান্স সার্ভিস হিসেবে। রংপুরের ওই দোকানদারের প্রতিবেশী যদি একটা কাপড়ের দোকান চালান, তার জন্যও একই পদ্ধতিতে সাইট বানানো সম্ভব, শুধু কন্টেন্ট আর প্রয়োজন আলাদা হবে।

পুরো এই প্রসেসটা, প্রম্পট লেখা থেকে হোস্ট করা পর্যন্ত, হাতে-কলমে, লাইভ ক্লাসে দেখানো হয় এই কোর্সে, যেখানে বাংলা কমান্ড দিয়েই পুরো কাজ করানো শেখানো হয়। যারা প্রথমবার শুরু করছেন, তাদের জন্য পাশে থেকে দেখিয়ে দেওয়াটা অনেক সময় বাঁচায়।

নিজের দোকান বা ব্যবসার জন্য একটা সাইট থাকা এখন আর বিলাসিতা না, বরং কাস্টমারের কাছে প্রথম পরিচয়ের জায়গা। প্রশ্নটা শুধু এটুকুই, আজ শুরু করবেন, নাকি আরেকদিন পরে?

আগে Nora-কে জিজ্ঞেস করুন, দরকারে কল/WhatsApp করুন