ব্লগে ফিরে যানClaude AI

Claude AI দিয়ে নিজের সিভি/পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট বানানো

Onnesh Team১৫ আগস্ট, ২০২৬

Claude AI দিয়ে নিজের সিভি/পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট বানানো

ঢাকার একজন কম্পিউটার সায়েন্সের ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট শ খানেক চাকরির আবেদন করেছেন, প্রতিবারই একই পিডিএফ সিভি পাঠিয়ে। ইন্টারভিউ কল আসছে খুবই কম। সমস্যাটা হয়তো সিভির বিষয়বস্তুতে না, বরং সবার মতো একই সাদামাটা ফরম্যাটে হারিয়ে যাওয়ায়। এই জায়গায় একটা ব্যক্তিগত সিভি ওয়েবসাইট, Claude AI দিয়ে zero-coding পদ্ধতিতে বানানো, আলাদা করে চোখে পড়ার একটা সুযোগ তৈরি করে দেয়।

কেন একটা পিডিএফ সিভির চেয়ে ওয়েবসাইট ভালো

পিডিএফ সিভি একটা নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আটকে থাকে, সীমিত জায়গায় সবকিছু গুঁজে দিতে হয়। একটা ওয়েবসাইটে এই সীমাবদ্ধতা নেই, প্রজেক্টের স্ক্রিনশট দেখানো যায়, কোনো লিংক থাকলে সরাসরি ক্লিক করে যাওয়া যায়, ভিডিও বা অন্য মিডিয়াও যোগ করা যায়। এছাড়া একটা ব্যক্তিগত ডোমেইনে (যেমন নিজের নামে) সিভি থাকা রিক্রুটারের কাছে একটা বাড়তি পেশাদারিত্বের ছাপ ফেলে, হাজারো একই রকম পিডিএফের মধ্যে আলাদা করে মনে থাকে।

একটা বাস্তব সুবিধাও আছে। ইমেইলে পিডিএফ অ্যাটাচমেন্ট অনেক সময় স্প্যাম ফিল্টারে আটকে যায় বা খুলতে সমস্যা হয়, বিশেষ করে মোবাইল থেকে দেখার সময়। একটা লিংক শেয়ার করা এই সমস্যা এড়িয়ে যায়, এক ক্লিকেই যেকোনো ডিভাইস থেকে দেখা যায়, কোনো ডাউনলোড ছাড়াই।

সিভি সাইটে কী কী থাকা উচিত

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও লক্ষ্য

শুরুতেই কে, কী নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, আর কী ধরনের কাজ খুঁজছেন তার একটা স্পষ্ট, ছোট বিবরণ। এটা যত নির্দিষ্ট হবে, রিক্রুটারের জন্য তত সহজ হবে বুঝতে এই প্রার্থী তাদের জন্য উপযুক্ত কি না।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

প্রচলিত সিভির মতোই এখানে শিক্ষাগত প্রতিষ্ঠান, ফলাফল, আর কোনো কাজের অভিজ্ঞতা (ইন্টার্নশিপ হলেও) তালিকাভুক্ত করা থাকবে। সময়ানুক্রমিকভাবে সাজালে পড়তে সহজ হয়।

স্কিল ও প্রজেক্ট

এইখানেই একটা ওয়েবসাইট পিডিএফের চেয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকে। শুধু "প্রোগ্রামিং জানি" লেখার বদলে আসল প্রজেক্টের লিংক, স্ক্রিনশট, বা সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া যায়, যা প্রার্থীর দক্ষতার প্রকৃত প্রমাণ দেখায়।

যোগাযোগের তথ্য

ইমেইল, ফোন নম্বর, আর যদি থাকে লিংকডইন বা গিটহাব প্রোফাইলের লিংক। এই তথ্য যেন সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, পাতার একদম নিচে লুকিয়ে না থেকে উপরের অংশেও একটা সংক্ষিপ্ত সংস্করণ থাকা ভালো।

রেফারেন্স বা সুপারিশ (ঐচ্ছিক)

যাদের কাছে প্রাক্তন শিক্ষক, ইন্টার্নশিপ সুপারভাইজার, বা কোনো সহকর্মীর কাছ থেকে একটা সংক্ষিপ্ত ইতিবাচক মন্তব্য পাওয়া সম্ভব, তারা চাইলে সেটা একটা ছোট সেকশনে যোগ করতে পারেন। এটা বাধ্যতামূলক না, কিন্তু থাকলে বাড়তি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে। এখানে সততা বজায় রাখা জরুরি, শুধু যে মন্তব্যগুলো সত্যিই পাওয়া গেছে সেগুলোই ব্যবহার করা উচিত।

প্রজেক্ট সেকশন কীভাবে সাজাবেন

প্রজেক্ট সেকশনে প্রতিটা প্রজেক্টের জন্য তিনটা জিনিস স্পষ্ট থাকা উচিত, সমস্যাটা কী ছিল, কী করা হয়েছে সমাধানের জন্য, আর ফলাফল কী দাঁড়িয়েছে। শুধু "একটা ওয়েবসাইট বানিয়েছি" লেখার চেয়ে, "একটা ছোট ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট বানিয়েছি, যেখানে অনলাইনে অর্ডার নেওয়ার ব্যবস্থা যোগ করেছি" এই ধরনের বর্ণনা অনেক বেশি অর্থবহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স প্রজেক্ট, ব্যক্তিগত প্রজেক্ট, বা কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, সবকিছুই এখানে যোগ করা যায়, যদি সেটা প্রার্থীর দক্ষতার একটা বাস্তব উদাহরণ দেখায়।

প্রথম প্রম্পট কীভাবে দেবেন

শুরুতে সহজ একটা কাঠামো চাওয়া যায়, "আমার জন্য একটা সিভি ওয়েবসাইট বানাও, উপরে নাম আর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, তারপর শিক্ষা, তারপর স্কিল, সবার নিচে যোগাযোগের তথ্য।" এরপর নিজের আসল তথ্য দিয়ে দিয়ে প্রতিটা সেকশন ভরাট করা যায়। ঢাকার ওই গ্র্যাজুয়েটের মতো যাদের কাজের অভিজ্ঞতা কম, তাদের জন্য প্রজেক্ট আর স্কিল সেকশনে বেশি জোর দেওয়া ভালো কৌশল, অভিজ্ঞতার অভাব পূরণ করতে।

ডিজাইন কতটা প্রফেশনাল হওয়া উচিত

সিভি সাইটে রংচঙে, জটিল ডিজাইনের চেয়ে পরিষ্কার, পেশাদার লুক বেশি কার্যকর। রিক্রুটাররা সাধারণত অনেক প্রার্থীর সিভি দ্রুত দেখেন, তাই তথ্য সহজে খুঁজে পাওয়া যাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শৈল্পিক নকশার চেয়ে। "একটা সাদামাটা, পেশাদার লুকের সাইট বানাও, বেশি রং বা অ্যানিমেশন ছাড়া" এই ধরনের নির্দেশ দিয়ে শুরু করা নিরাপদ। যারা ডিজাইন সংক্রান্ত পেশায় (যেমন গ্রাফিক ডিজাইনার) আবেদন করছেন, তাদের জন্য অবশ্য একটু বেশি সৃজনশীল ডিজাইন নিজের দক্ষতার প্রমাণ হিসেবেও কাজ করতে পারে, কারণ সেক্ষেত্রে সাইটটাই একটা কাজের নমুনা হয়ে দাঁড়ায়।

রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটা বা দুইটা মূল রং ব্যবহার করে বাকিটা সাদা বা হালকা ধূসর রাখা নিরাপদ পথ। অতিরিক্ত রঙের ব্যবহার মনোযোগ ভাগ করে দেয়, যেখানে আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রার্থীর যোগ্যতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

ডাউনলোডযোগ্য পিডিএফ ভার্সনও রাখা

অনেক চাকরির আবেদন প্রক্রিয়ায় এখনো পিডিএফ ফরম্যাটে সিভি জমা দিতে হয়। তাই ওয়েবসাইটের পাশাপাশি একটা ডাউনলোড বাটন রাখা ভালো, যেখান থেকে একটা পিডিএফ ভার্সন নামানো যায়। এই দুটো একসাথে থাকলে যেকোনো আবেদন প্রক্রিয়ার জন্যই প্রস্তুত থাকা যায়, অনলাইন লিংক শেয়ার করা যায়, আবার প্রয়োজনে পিডিএফও পাঠানো যায়।

গুগলে নিজের নাম সার্চ করলে যেন এই সাইটটা আসে

অনেক রিক্রুটার আবেদনপত্র পাওয়ার পর প্রার্থীর নাম গুগলে সার্চ করে দেখেন। যদি নিজের নামে একটা সিভি সাইট থাকে, আর সেটা সার্চ ফলাফলে উপরের দিকে আসে, তাহলে এটা একটা অতিরিক্ত ইতিবাচক ছাপ ফেলে। এর জন্য সাইটের মেটা টাইটেলে নিজের পুরো নাম আর পেশা উল্লেখ করা ভালো, যেমন "রাহাত হোসেন, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার"। নতুন সাইট গুগলে ভালোভাবে দেখাতে কিছুটা সময় লাগে, তাই এই সাইটটা যত আগে তৈরি করে রাখা যায়, তত ভালো, চাকরি খোঁজার ঠিক আগে তাড়াহুড়ো করে বানানোর চেয়ে।

লিংকডইনের সাথে সমন্বয়

সিভি ওয়েবসাইট লিংকডইন প্রোফাইলের বিকল্প না, বরং সম্পূরক। লিংকডইনে নেটওয়ার্কিং আর পেশাদার যোগাযোগ হয়, সিভি সাইটে বিস্তারিত, নিজের মতো করে সাজানো তথ্য থাকে। দুটোতে একে অপরের লিংক দিয়ে রাখা ভালো, লিংকডইন প্রোফাইলে সিভি সাইটের লিংক যোগ করা যায়, আর সিভি সাইটে লিংকডইন প্রোফাইলের লিংক।

নিয়মিত আপডেট রাখা

নতুন স্কিল শেখা হলে, নতুন প্রজেক্ট শেষ হলে, বা কোনো সার্টিফিকেট অর্জন করলে সিভি সাইটে যোগ করে নেওয়া উচিত, ঠিক যেমন পিডিএফ সিভি আপডেট করা হতো। যেহেতু এখানে Claude-কে বলে দিলেই আপডেট হয়ে যায়, কোনো নতুন ফাইল বানিয়ে সেভ করার ঝামেলা নেই, তাই এই আপডেট রাখাটা আসলে পিডিএফের চেয়ে সহজ। একটা পুরনো, ছয় মাস আগের তথ্যে ভরা সিভি সাইট রিক্রুটারের চোখে ভালো দেখায় না, তাই মাসে অন্তত একবার চোখ বুলিয়ে দেখা ভালো অভ্যাস।

একটা ব্যক্তিগত গল্প যোগ করার সুযোগ

পিডিএফ সিভিতে জায়গার অভাবে ব্যক্তিগত আগ্রহ বা ক্যারিয়ারের পেছনের গল্প বলার সুযোগ কম থাকে। ওয়েবসাইটে এই সীমাবদ্ধতা নেই। কেন এই ক্ষেত্রে আগ্রহী হলেন, কোন ঘটনা অনুপ্রাণিত করেছে, এই ধরনের দুই-তিন লাইনের একটা ব্যক্তিগত ছোঁয়া প্রার্থীকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। তবে এই অংশটা সংক্ষিপ্ত রাখা উচিত, পুরো সাইটটা যেন আত্মজীবনী না হয়ে যায়, মূল ফোকাস সবসময় দক্ষতা আর যোগ্যতার ওপরই থাকা উচিত।

সততা বজায় রাখার গুরুত্ব

একটা ওয়েবসাইট থাকলে চাকরিদাতার কাছে ভালো দেখানোর তাগিদ থেকে অনেকে দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে বলার প্রলোভনে পড়েন। এটা এড়ানো উচিত। ইন্টারভিউতে সিভিতে লেখা যেকোনো বিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারে, আর অতিরঞ্জিত তথ্য সহজেই ধরা পড়ে যায়। যতটুকু জানা আছে, যতটুকু করা হয়েছে, ততটুকুই স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করাই দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে।

এই সততার একটা বাস্তব সুবিধাও আছে। যারা নিজের দক্ষতার সীমা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন, এবং পাশাপাশি শেখার আগ্রহ দেখান, তারা প্রায়ই বেশি বিশ্বস্ত মনে হন যারা সবকিছু জানেন বলে দাবি করেন তাদের চেয়ে। "শিখছি" বা "অভিজ্ঞতা অর্জন করছি" এই ধরনের সৎ ভাষা ব্যবহার করতে দ্বিধা করার দরকার নেই, এটা দুর্বলতা না, বরং আত্মসচেতনতার প্রমাণ।

যাদের জন্য এটা বিশেষভাবে কাজে দেয়

টেক ইন্ডাস্ট্রি, ডিজাইন, মার্কেটিং, এই ধরনের ক্ষেত্রে যেখানে ডিজিটাল দক্ষতা মূল্যবান বলে বিবেচিত হয়, সেখানে একটা সিভি ওয়েবসাইট থাকা নিজেই একটা দক্ষতার প্রমাণ, প্রার্থী ডিজিটাল টুল ব্যবহার করতে জানেন তা দেখায়। ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট, যাদের কাজের অভিজ্ঞতা কম কিন্তু প্রজেক্ট বা স্কিল আছে, তাদের জন্যও এটা বিশেষভাবে কার্যকর, কারণ এখানে অভিজ্ঞতার ঘাটতি প্রজেক্ট আর উদ্যোগ দেখিয়ে পূরণ করা যায়।

যারা বিদেশে স্কলারশিপ বা চাকরির জন্য আবেদন করছেন, তাদের জন্যও এটা বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রায়ই একটা অনলাইন উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হয়, শুধু কাগুজে সিভির বাইরে। যারা ফ্রিল্যান্স মার্কেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তাদের জন্য এই সিভি সাইট একটা পোর্টফোলিওর কাজও করে, সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের কাছে পাঠানোর জন্য।

একটা সিভি সাইট যথেষ্ট কেন

একটা ভালো সাজানো সিভি ওয়েবসাইট চাকরি নিশ্চিত করে না, কিন্তু এটা প্রার্থীকে বাকিদের থেকে আলাদা করার একটা বাস্তব সুযোগ তৈরি করে দেয়। ঢাকার ওই গ্র্যাজুয়েটের মতো যারা শত শত আবেদনের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছেন বলে মনে করেন, তাদের জন্য এই ছোট বিনিয়োগ একটা ইন্টারভিউ কলের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

পুরো প্রক্রিয়াটা হাতে-কলমে দেখানো হয় এই কোর্সে, যেখানে বাংলা কমান্ড দিয়ে বাস্তব প্রজেক্ট বানানো শেখানো হয়। যারা শুধু চাকরির জন্য না, নিজের বৃহত্তর অনলাইন উপস্থিতি নিয়েও ভাবছেন, তাদের জন্য ব্লগ ও পোর্টফোলিও একসাথে বানানোর গাইডটাও দেখে নেওয়া যেতে পারে, যেখানে সিভি সাইটের বাইরে নিয়মিত লেখালেখির একটা জায়গাও যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

আগে Nora-কে জিজ্ঞেস করুন, দরকারে কল/WhatsApp করুন