ব্লগে ফিরে যানClaude AI

Claude AI দিয়ে blog/portfolio সাইট বানানোর গাইড

Onnesh Team১৪ আগস্ট, ২০২৬

Claude AI দিয়ে blog/portfolio সাইট বানানোর গাইড

খুলনার একজন কনটেন্ট রাইটারের কথা ধরা যাক। তিনি বিভিন্ন ক্লায়েন্টের জন্য লেখেন, কিন্তু নিজের লেখাগুলো কোথাও একসাথে দেখানোর জায়গা নেই। নতুন কোনো ক্লায়েন্ট তার কাজের নমুনা চাইলে তাকে আলাদা আলাদা গুগল ডক লিংক পাঠাতে হয়, যা দেখতে পেশাদার লাগে না। এই সমস্যার সহজ সমাধান হলো একটা নিজস্ব blog আর portfolio সাইট, যা Claude AI দিয়ে বাংলায় প্রম্পট লিখেই বানানো সম্ভব, কোনো কোডিং জ্ঞান ছাড়াই।

ব্লগ আর পোর্টফোলিও, এই দুটো একসাথে কেন

অনেকে ভাবেন ব্লগ আর পোর্টফোলিও আলাদা দুটো জিনিস। বাস্তবে একজন ফ্রিল্যান্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জন্য দুটো একসাথে থাকলে সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়। পোর্টফোলিও অংশে থাকে সেরা কাজের নমুনা, আর ব্লগ অংশে থাকে নিয়মিত লেখা, যা দেখিয়ে দেয় লেখক এখনো সক্রিয়, এখনো লিখছেন। একজন নতুন ক্লায়েন্ট দুটো একসাথে দেখলে আস্থা অনেক বেশি পান, শুধু পুরনো কাজের একটা তালিকার চেয়ে।

এই সাইটে কী কী পেজ থাকা দরকার, তা আগে ঠিক করা

সাইট বানানো শুরু করার আগে একটা তালিকা করে নেওয়া ভালো, ঠিক কী কী পেজ থাকবে আর প্রতিটার উদ্দেশ্য কী। এলোমেলোভাবে শুরু করলে পরে পেজ যোগ-বিয়োগ করতে করতে কাঠামোটা অগোছালো হয়ে যায়। নিচে সাধারণত যা যা লাগে তার একটা রূপরেখা দেওয়া হলো।

সাইটের কাঠামো কেমন হবে

হোমপেজ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, কী নিয়ে লেখেন, আর সাম্প্রতিক তিন-চারটা লেখার লিংক। বেশি তথ্য গুঁজে দেওয়ার দরকার নেই, শুধু দর্শক যেন এক নজরে বুঝতে পারেন কে লিখছেন আর কী নিয়ে।

পোর্টফোলিও পেজ

এখানে কাজের নমুনা সাজানো থাকবে, বিষয় অনুযায়ী ভাগ করে। খুলনার ওই রাইটারের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে "ব্লগ লেখা", "প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন", আর "সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট" নামে তিনটা আলাদা সেকশন। প্রতিটা নমুনার সাথে সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট থাকা ভালো, কোন ক্লায়েন্টের জন্য লেখা, কী উদ্দেশ্যে।

ব্লগ পেজ

এখানে নিয়মিত লেখা প্রকাশ হবে। প্রতিটা লেখার একটা তালিকা, তারিখসহ, আর ক্লিক করলে পুরো লেখা পড়া যাবে।

সম্পর্কে (About) পেজ

অনেকে এই পেজটা বাদ দিয়ে যান, অথচ এটাই সবচেয়ে বেশি পড়া হয় নতুন দর্শকের কাছে। এখানে লেখকের পেছনের গল্প, কীভাবে লেখালেখি শুরু হলো, কোন বিষয়ে আগ্রহ, এসব থাকা ভালো। শুধু "আমি একজন কনটেন্ট রাইটার" লেখার চেয়ে, কেন এই কাজ করেন, কী তাকে অনুপ্রাণিত করে, এই ধরনের ব্যক্তিগত ছোঁয়া পাঠককে বেশি সংযুক্ত করে।

প্রথম প্রম্পট কীভাবে লিখবেন

শুরুতে পুরো কাঠামোটা এক প্রম্পটে চাওয়ার দরকার নেই। প্রথমে বলা যায়, "আমার জন্য একটা সিম্পল পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট বানাও, উপরে নাম আর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, নিচে কাজের নমুনা দেখানোর জায়গা।" এইটুকু থেকে Claude একটা কাঠামো দাঁড় করিয়ে দেবে। এরপর ব্লগ অংশ আলাদা প্রম্পটে যোগ করা যায়, "এখন একটা ব্লগ সেকশন যোগ করো, যেখানে লেখার তালিকা তারিখ অনুযায়ী দেখাবে।"

একটা নতুন লেখা প্রকাশ করার বাস্তব ধাপ

ধরা যাক সাইট বানানো শেষ, এখন প্রথম ব্লগ লেখাটা প্রকাশ করতে হবে। প্রক্রিয়াটা এরকম হতে পারে, প্রথমে লেখাটা যেকোনো জায়গায় লিখে রাখা, তারপর Claude-কে বলা "এই লেখাটা ব্লগ সেকশনে যোগ করো, শিরোনাম এই, তারিখ আজকের।" Claude লেখাটা সাইটের কাঠামোয় বসিয়ে দেবে, ঠিকঠাক ফরম্যাট করে। প্রথমবার এই প্রক্রিয়াটা একটু অচেনা লাগতে পারে, কিন্তু তিন-চারটা লেখা প্রকাশ করার পর এটা রুটিন হয়ে যায়, বেশিরভাগ সময় পাঁচ মিনিটের কম লাগে।

কনটেন্ট নিজে সাজানোর গুরুত্ব

পোর্টফোলিও সাইটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো নিজের আসল কাজ, স্যাম্পল লেখা। Claude সাইটের কাঠামো বানাতে পারে, কিন্তু কোন লেখাটা সবচেয়ে ভালো প্রতিনিধিত্ব করে সেই সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়। তিন থেকে পাঁচটা সেরা নমুনা বেছে রাখা ভালো, সবকিছু একসাথে দিলে দর্শক বিভ্রান্ত হয়ে যান, কোনটা দেখবেন বুঝতে পারেন না।

ডিজাইনে যা মাথায় রাখা দরকার

লেখালেখির সাইটে ডিজাইন যত সাদামাটা, তত ভালো পড়া যায়। অতিরিক্ত রং, অ্যানিমেশন, বা জটিল লেআউট আসলে লেখা থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়। "লেখা পড়তে সুবিধাজনক এমন একটা সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ড রাখো, ফন্ট বড় আর পরিষ্কার রাখো" এই ধরনের নির্দেশ দিয়ে শুরু করা ভালো। পরে ব্র্যান্ডিং অনুযায়ী রং যোগ করা যায়, কিন্তু পঠনযোগ্যতা সবসময় প্রথম অগ্রাধিকার থাকা উচিত।

নতুন লেখা যোগ করার প্রক্রিয়া সহজ রাখা

একটা ব্লগ সাইটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিয়মিত লেখা যোগ করা। যদি প্রতিটা নতুন লেখার জন্য জটিল প্রক্রিয়া পার হতে হয়, বেশিরভাগ মানুষ কয়েক সপ্তাহ পর লেখা বন্ধ করে দেন। তাই শুরুতেই Claude-কে বলে রাখা ভালো একটা সহজ পদ্ধতি বানাতে, যেখানে নতুন লেখা যোগ করা কয়েক মিনিটের কাজ হয়। খুলনার ওই রাইটারের মতো যারা নিয়মিত লিখতে চান, তাদের জন্য এই সহজলভ্যতা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার একটা বড় শর্ত।

সার্চ ইঞ্জিনের জন্য কী করণীয়

ব্লগ সাইটের একটা বড় উদ্দেশ্য থাকে গুগল সার্চ থেকে নতুন পাঠক পাওয়া। এর জন্য প্রতিটা লেখার একটা স্পষ্ট শিরোনাম, সংক্ষিপ্ত বিবরণ, আর পরিষ্কার হেডিং কাঠামো থাকা দরকার। Claude-কে বলা যায়, "প্রতিটা ব্লগ পোস্টে একটা মেটা টাইটেল আর মেটা ডেসক্রিপশন যোগ করার ব্যবস্থা রাখো।" এই ছোট প্রযুক্তিগত অংশটা অনেকে বাদ দিয়ে যান, অথচ এটাই সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাওয়ার একটা বড় শর্ত।

শিরোনাম বাছাইয়ের সময়ও একটা জিনিস মাথায় রাখা ভালো, পাঠক আসলে কী লিখে সার্চ করবেন। "আমার অভিজ্ঞতা" ধরনের অস্পষ্ট শিরোনামের বদলে "ফ্রিল্যান্স রাইটিং শুরু করার প্রথম ছয় মাসে যা শিখেছি" ধরনের নির্দিষ্ট শিরোনাম সার্চে খুঁজে পাওয়া সহজ করে, কারণ এতে বাস্তব সার্চ টার্মের সাথে মিল থাকে।

বিজ্ঞাপন বা স্পনসরশিপ নিয়ে একটা সতর্কতা

ব্লগ জনপ্রিয় হলে অনেকে বিজ্ঞাপন বসিয়ে বা স্পনসরড লেখা লিখে বাড়তি কিছু আয়ের কথা ভাবেন। এটা সম্ভব, কিন্তু এখানে বাস্তবতা মেনে চলা জরুরি, নতুন একটা সাইটে পাঠক সংখ্যা কম থাকা অবস্থায় এই আয় খুবই সামান্য বা শূন্যও হতে পারে। এটা কোনো নিশ্চিত আয়ের পথ না, বরং সময়ের সাথে দর্শক বাড়লে হয়তো একটা বাড়তি সুযোগ তৈরি হতে পারে। মূল লক্ষ্য শুরুতে দর্শকের বিশ্বাস অর্জন করা, আয়ের চিন্তা পরে।

ডোমেইন নাম বাছাইয়ের কৌশল

নিজের নাম দিয়ে ডোমেইন কেনা সবচেয়ে নিরাপদ পথ, যেমন rahimwrites.com ধরনের কিছু। এতে সুবিধা হলো, ভবিষ্যতে বিষয় বা কাজের ধরন বদলালেও ডোমেইনটা প্রাসঙ্গিক থাকে। অনেকে শুরুতে একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের নামে ডোমেইন কেনেন, যেমন কোনো নির্দিষ্ট নিশ বা সার্ভিসের নামে, কিন্তু পরে কাজের পরিধি বাড়লে সেই নামটা সীমাবদ্ধ মনে হতে থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করে নিজের নাম বা একটা নিরপেক্ষ ব্র্যান্ড নাম বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

পোর্টফোলিওকে আয়ের উৎসে রূপান্তর করা

শুধু দেখানোর জায়গা হিসেবে না, পোর্টফোলিও সাইটটা একটা কাজের হাতিয়ারও হতে পারে। প্রতিটা পেজে একটা স্পষ্ট যোগাযোগের উপায় থাকা উচিত, ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, বা একটা সংক্ষিপ্ত ফর্ম, যেখান থেকে সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। খুলনার ওই রাইটার যদি পোর্টফোলিও পেজের শেষে "নতুন প্রজেক্টের জন্য যোগাযোগ করুন" বাটন রাখেন, সেটাই তার সাইটকে শুধু দেখানোর জিনিস থেকে কাজ পাওয়ার একটা চ্যানেলে পরিণত করে।

মোবাইলে পড়ার অভিজ্ঞতা

বেশিরভাগ মানুষ ব্লগ লেখা মোবাইলে পড়েন, বাসে বসে বা বিরতির সময়। তাই লেখার লাইন খুব লম্বা না হওয়া, প্যারাগ্রাফ ছোট ছোট রাখা, আর ফন্ট পর্যাপ্ত বড় হওয়া জরুরি। ডেস্কটপে সুন্দর দেখানো একটা লেআউট মোবাইলে লেখা গাদাগাদি করে দেখাতে পারে। প্রতিটা নতুন লেখা প্রকাশের পর একবার মোবাইলে খুলে দেখে নেওয়া ভালো অভ্যাস, পড়তে আরামদায়ক লাগছে কি না।

এই বিষয়টা পোর্টফোলিও সাইটের ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট প্রায়ই প্রথমবার মোবাইল থেকেই সাইট দেখেন, বিশেষ করে যদি লিংকটা ফেসবুক মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। মোবাইলে ছবি বা লেখার নমুনা ঠিকমতো লোড না হলে প্রথম ছাপটাই খারাপ হয়ে যায়।

সাধারণ ভুল যা এড়ানো উচিত

সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো সাইট বানিয়ে ফেলে রাখা, প্রথম কয়েকটা লেখার পর নতুন কিছু যোগ না করা। একটা পুরনো, অচল ব্লগ দেখলে সম্ভাব্য ক্লায়েন্টের মনে হয় লেখক হয়তো এখন আর সক্রিয় না। এর চেয়ে ভালো একটা ছোট, নিয়মিত আপডেট হওয়া সাইট।

আরেকটা ভুল হলো পোর্টফোলিওতে অতিরিক্ত কাজ যোগ করা, মানের চেয়ে সংখ্যার দিকে বেশি নজর দেওয়া। দশটা গড়পড়তা নমুনার চেয়ে তিনটা চমৎকার নমুনা অনেক বেশি কার্যকর।

তৃতীয় একটা ভুল হলো নিজের লেখার কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলা। Claude লেখা মসৃণ করে দিতে পারে, কিন্তু ব্লগ পোস্টের আসল বিষয়বস্তু আর মতামত নিজের হওয়া উচিত। যান্ত্রিক, সবার মতো শোনানো লেখা পাঠকের মনে থাকে না, নিজের অভিজ্ঞতা আর দৃষ্টিভঙ্গি মিশিয়ে লেখাই দীর্ঘমেয়াদে পাঠক ধরে রাখে।

যাদের জন্য এই ধরনের সাইট বিশেষভাবে দরকার

লেখক, ডিজাইনার, ফটোগ্রাফার, ভিডিও এডিটর, ফ্রিল্যান্স মার্কেটার, এই ধরনের পেশায় যারা কাজ করেন, তাদের জন্য একটা পোর্টফোলিও সাইট এখন প্রায় অপরিহার্য। শুধু ফেসবুক পেজ বা লিংকডইন প্রোফাইলের ওপর নির্ভর করলে নিজের কাজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে না, প্ল্যাটফর্মের নিয়ম বদলালে দৃশ্যমানতাও বদলে যায়। নিজের ডোমেইনে একটা সাইট থাকলে সেই ঝুঁকিটা থাকে না।

তবে সবার জন্য ব্লগ অংশটা সমান জরুরি না। যারা মূলত চাকরি বা ফ্রিল্যান্স প্রজেক্ট খুঁজছেন, শুধু নিজের অভিজ্ঞতা আর কাজের প্রমাণ দেখাতে চান, তাদের জন্য শুধু একটা সিভি-ভিত্তিক পোর্টফোলিও সাইট বেশি উপযুক্ত হতে পারে, ব্লগ ছাড়াই। কিন্তু যারা নিয়মিত লেখালেখি করেন বা করতে চান, নিজের চিন্তা প্রকাশের একটা জায়গা চান, তাদের জন্য এই দুটোর সমন্বয়টাই সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

শেষ কথা

একটা ব্লগ আর পোর্টফোলিও সাইট বানাতে বড় বাজেট বা টেকনিক্যাল টিম লাগে না। দরকার শুধু নিজের সেরা কাজ বেছে নেওয়ার বিচারবোধ, আর নিয়মিত কিছুটা সময় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। বাকিটা Claude AI-এর সাথে কথোপকথনের মাধ্যমেই সম্ভব।

পুরো প্রক্রিয়াটা হাতে-কলমে দেখানো হয় এই কোর্সে, যেখানে বাংলা কমান্ড দিয়ে বাস্তব প্রজেক্ট বানানো শেখানো হয়। খুলনার ওই রাইটারের মতো যারা নিজের কাজ দেখানোর একটা জায়গা খুঁজছেন, তাদের জন্য এটাই একটা বাস্তবসম্মত শুরু।

কয়েক মাস পর যখন কেউ প্রথম নতুন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে বার্তা পান, "আপনার সাইট দেখে যোগাযোগ করলাম", তখনই বোঝা যায় এই সময় বিনিয়োগটা কাজে দিয়েছে।

আগে Nora-কে জিজ্ঞেস করুন, দরকারে কল/WhatsApp করুন